মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস ১২ই মে, ২০১৯

“সুস্থ মাড়ি, সুন্দর হাসি”

সম্পাদনা ও পর্যালোচনাঃ ডাঃ এনাম আহমেদ

বাংলা অনুবাদঃ ডাঃ সুকান্ত হালদার আকাশ

আজ ১২ই মে, “মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস ২০১৯ (Gum Health Day 2019), অনুষ্ঠিতব্য এই দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে, “সুস্থ মাড়ি, সুন্দর হাসি।(Healthy gums, beutiful smile)”. বিশ্বব্যাপী এই দিবসটির মূলউদ্দ্যোক্তা ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ পেরিওডন্টোলজি (ইএফপি) যা একটি অলাভজনক সংগঠন, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ছত্রছায়ার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাড়ি স্বাস্থ্য ও মাড়ির প্রদাহ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরী, দাঁত ও মাড়ি বিষয়ক জ্ঞান ও চর্চা বৃদ্ধি এবং গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের নিমিত্তেই এই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। “মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস” ১২ই মে ২০১৯ একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস যা ষষ্ঠ বারের মত ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ পেরিওডন্টোলজি (ইএফপি) এর উদ্দ্যোগে বিশ্বের প্রায় ৪৫টি জাতীয় পেরিওডন্টোলজি সংগঠন এর আয়োজনে অংশগ্রহণ করছে। এই দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হলো, জনগনকে মাড়ি স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং মাড়ির প্রদাহ ও এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য রোগের ব্যাপারে সচেতন করা। দিবসটি ইতিপূর্বে কেবল ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর বিস্তার বিশ্বব্যাপী। এবারের স্লোগান, “সুস্থ মাড়ি, সুন্দর হাসি।” এই দিবসের মূল লক্ষ্য:-

■সার্বিক স্বাস্থ্য ছাড়াও সৌন্দর্যবোধ, আত্মমর্যাদা ও আত্মসম্মান বৃদ্ধিতে মাড়ি স্বাস্থ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা।

■শারীরিক সুস্থতার সাথে মাড়ি স্বাস্থ্যের সংযোগ এবং মাড়ি প্রদাহের সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য রোগ যেমন ডায়বেটিস, হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তসংবহন জটিলতা ইত্যাদি বিষয় জনগনকে জানানো। ■মাড়ির সুস্বাস্থ্য যে কত জীবন বাঁচাতে পারে, কত জটিল শারীরিক সমস্যাকে দূরে রাখতে পারে এবং কত কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে সে সব দিক সম্পর্কে জনগনকে অবহিত করা। ইএফপি এবং এর সাথে যুক্ত অন্যান্য জাতীয় সংগঠনগুলো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ইভেন্ট এবং মিডিয়া প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে মাড়িকে সুস্থ্য ও শক্তিশালীর রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করছে এবং সেই সাথে ১২ই মে তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সচেতনতা দিবসে লক্ষ লক্ষ মানুষ জিনজিভাইটিস, পেরিওডন্টাইটিস, মুখে দুর্গন্ধ এবং পেরি-ইমপ্ল্যান্টাইটিস এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 ◆◆◆মাড়ি স্বাস্থ্য দিবসের প্রেক্ষাপটঃ◆◆◆

●European Periodontology Day 2014:

সর্বপ্রথম মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস (যা পূর্বে European Periodontology Day 2014 নামে পরিচিত ছিল) স্প্যানিস পেরিও সোসাইটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি পাইলট প্রোজেক্ট দ্বারা ২০১৪ সালের ১২ ই মে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হয়। এর সাথে আরো যুক্ত ছিল ডায়বেটিস, কার্ডিওভাস্কুলার এবং গাইনিকোলজিকাল সোসাইটির বেশ কয়েকজন চিকিৎসকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল মাড়ি স্বাস্থ্যের সাথে শারীরিক স্বাস্থ্যের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করা এবং দিনটিকে ইউরোপব্যাপী একটি বিশেষ দিবস হিসেবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা।

●European Periodontology Day 2015:

২০১৪ এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, ইএফপি ২০১৫ সালের ১২ ই মে মাড়ির স্বাস্থ্যের উপরে আরো গুরুত্ব আরোপ করে এবং মাড়ি প্রদাহ রক্ষার উপায় বিশ্লেষন করে আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে৷ সবসময়ই ইউরোপিয়ান পেরিওডন্টোলজি দিবসের ২০১৫ (European Periodontology Day 2015) মূল লক্ষ ছিল শারীরিক সুস্থ্যতারসাথে মাড়ি স্বাস্থ্যের যোগাযোগ স্থাপন করা।

●European Periodontology Day 2016:

২০১৬ সালে ইতিপূ্র্বের যেকোন বছরের থেকে অনেক বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইএফপি। অনুষ্ঠানটিকে আরো বেগবান করার জন্য সেই বছরের প্রতিপাদ্য রাখা হয়, “উত্তম জীবনের জন্য মাড়ি স্বাস্থ্য।” ইউরোপিয়ান অন্যান্য সংগঠনগুলোও একই সাথে মাড়ির রোগ এর পাশাপাশি এর সাথে সংযুক্ত অন্যান্য রোগ গুলো যেমনঃ করোনারি হার্ট ডিজিজ এর ব্যপারেও গণসচেতনতা গড়ে তোলে। ২১টি ইএফপি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ১২ই মে তারিখে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান পেরিওডন্টোলজি দিবস ২০১৬ (European Periodontology Day 2016) উদযাপনে অংশগ্রহণ করে।

●European Gum Health Day 2017:

২০১৭ সাল থেকে এই দিবসের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ইউরোপিয়ান মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস ২০১৭ (European Gum Health Day 2017) যা এক অনন্য সফলতা লাভ করে। সেখানে ইএফপি এবং তাদের সাথে জড়িত জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে মাড়ির সুস্থতায় প্রয়োজনীয়তা এবং এর সাথে শারীরিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা দেন। ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ককেশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায়, ইএসপি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০ টি সংগঠনের মধ্যে ২৭ টি সংগঠন “একসাথে পেরিওডন্টাল ডিজিজ মোকাবেলা করি” এই স্লোগানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং মিডিয়া কর্মকাণ্ড আয়োজন করে।

●European Gum Health Day 2018:

২০১৮ সালে ইউরোপিয়ান মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস (European Gum Health Day 2018) এর মূল প্রতিপাদ্য স্লোগান ছিল,” সুস্থ মাড়ি থেকেই সুস্বাস্থ্যের সূচনা।” যেখানে চারটি দেশের ৪১টি পেরিও সোসাইটি অংশগ্রহণ করে। যাদের মধ্যে ই.এফ.পি এর সাথে সংশ্লিষ্ট ২৯ টি প্রতিষ্ঠান ও ল্যাটিন আমেরিকার ১২টি প্রতিষ্ঠান ছিল। তারা গন সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা সচেতনামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে। এর মধ্যে বিনামূল্যে দাঁত ও মাড়ির পরীক্ষা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

●Gum Health Day 2019:

ইউরোপিয়ান মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস (European Gum Health Day) আন্তর্জাতিক ভাবে সফলতা পাওয়ায়, এবারে দিবসটিকে “মাড়ি স্বাস্থ্য দিবস ২০১৯ (Gum Health Day 2019)” হিসেবে নামকরন করা হয়। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সারা বিশ্বের সকল স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ইউরোপিয়ান ফেডারেশন অফ পেরিওডন্টোলজি (ইএফপি) এর মূল নীতির (EFP Manifesto) সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মাড়ির রোগ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে।

বিশেষ ধন্যবাদঃ

শান্তি কুইনোন (ইএফপি কম্যুনিকেশন কো-অরডিনেটর), ডাঃ সুকান্ত হালদার আকাশ, ইউডিসিজিএস এর সকল সদস্য এবং ডেন্টাল টাইমসকে; মাড়ি স্বাস্থ্য দিবসকে প্রচার ও জনসচেতনতা তৈরির জন্য।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s